Posts

Showing posts from June, 2021

সাবান তৈরির কৌশল

Image
সাবান তৈরিরে যেসব  কাঁচামাল লাগবে ১.কস্টিক সোডা ২.পাম ওয়েল ৩.ডালডা অয়েল ৪.সোডিয়াম সিলিকেট ৫.পানি সাবান প্রস্তুত প্রণালি একটি পাত্রে ৭০০ গ্রাম পানিতে ৩৫০ গ্রাম কস্টিক সোডা মিশিয়ে ভালো করে গরম করে ১ দিন রেখে দিতে হবে। ১ কেজি পাম‌ওয়েল ও ৫০০ গ্রাম ডালডা ভালো করে মিশিয়ে গরম করে এতে কস্টিক সোডার দ্রবণ মেশাতে হবে। এ দ্রবণের মধ্যে তরল সোডিয়াম সিলিকেট মিশিয়ে বারবার নাড়তে হবে। মিশ্রণ ঘন হয়ে গেলে সাবানের আকৃতি বানানোর ছাঁচে টেলকম পাউডার সহ দুই দিন রেখে দিতে হবে। হয়ে গেল বল সাবান। এভাবে সবান তৈরির কারখান‌ও স্থাপন যায়। ব্যবহৃত যৌগিক পদার্থসমূহের বিবরণ: ১.কস্টিক সোডা:   সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি রাসায়নিক পদার্থ যা  কস্টিক সোডা  নামে বেশি পরিচিত। এটি একটি অজৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NaOH। এটি সাদা কঠিন পদার্থ। বাজারে এটি কঠিন এবং তরল দুই অবস্থাতেই পাওয়া যায়। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের গাঢ় জলীয় দ্রবণকে সাধারণত কস্টিক সোডা লাই (Lye) বলে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড  বিক্রিয়া করে  সোডিয়াম ক্লোরাইড  (খাওয়ার লবণ) ও জল উৎপন্ন হয়ঃ...

বেকিং সোডা (Baking Soda)

 সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা বেকিং সোডা  IUPAC নামঃ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট । একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসয়নিক সংকেত NaHCO3। সোডিয়াম বাইকার্বনেট সাদা কঠিন স্ফটিক পদার্থ কিন্তু প্রায়শই একে মিহি পাউডার রূপে ব্যবহার করা হয়। এটা সামান্য লবনাক্ত, সোডিয়াম কার্বনেট এর মত ক্ষারীয় স্বাদ।  ১৭৯১ সালে ফরাসি রসায়নবিদ নিকোলাস লেবল্যাঙ্ক সোডিয়াম কার্বনেট প্রস্তুত করেন যা সাধারণত সোডা এশ নামে পরিচিত। ১৮৪৬ সালে নিউ ইয়র্কের দুজন রুটি প্রস্তুতকারক জন ডোয়াইট এবং অস্টিন চার্চ সোডিয়াম কার্বনেট এবং কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে বেকিং সোডা তৈরীর প্রথম ফ্যাক্টরি নির্মাণ করেন। সোডিয়াম হাইড্রক্সাইডের জলীয় দ্রবনের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইডের বিক্রিয়ায় NaHCO3 উৎপন্ন হতে পারে। প্রাথমিক বিক্রিয়ায় সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়ঃ CO2 + 2 NaOH → Na2CO3 + H2O আরো কার্বন ডাই অক্সাইড যোগ করলে সোডিয়াম বাই কার্বনেট উৎপন্ন হবে এবং অতি উচ্চ ঘনমাত্রায় অধঃক্ষেপ পড়বেঃ Na2CO3 + CO2 + H2O → 2 NaHCO3 বাণিজ্যিক ভাবে একই পদ্ধতিতে বেকিং সোডা প্রস্তুত করা যায়ঃ সোডা অ্যাশ, ট্রোনা আকরিক রূপে খনিতে পাওয়া যায়। জলে...

টুথপেস্টে কি থাকে? কিভাবে বানানো যায়?

  টুথপেস্ট   টুথপেস্ট আমাদের প্রতিদিনের একটি প্রয়োজনীয় জিনিস। বাজারে যেসব টুথপেস্ট পা‌ওয়া যায় তাতে ২০% থেকে ৪২% পানি ছাড়াও আরও তিনটি প্রধান উপাদান হলো  পালিশ, ফ্লোরাইড এবং ডিটারজেন্ট। ঘরে বসে নিজেদের টুথপেস্ট নিজেরাই তৈরি করবেন যেভাবে উপকরণ এক চা চামচ বেকিং সোডা , আধা চা চামচ লবণ (গুড়া করা), এক ফোটা সুগন্ধি, লবঙ্গ ও দারুচিনির নির্যাস, পানি প্রয়োজনমতো প্রণালি সব উপকরণ একটি ছোট বাটিতে নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখুন আপনার পেস্ট যেন বেশি তরল না হয় । এই পেস্ট প্রয়োজনীয় পরিমাণে তৈরি করে আপনি বাজারের কেনা পেস্টের মতোই ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার শিশুর দাঁতের যত্নেও ঘরে তৈরি টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। টুথপেস্ট যেভাবে ব্যবহার করা দরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত ব্রাশ করার জন্য মটরশুঁটির দানার পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ব্রাশ ভর্তি করে পেস্ট নেওয়ার কোনো দরকার নেই।   নিবন্ধটি তৈরি করতে যেসব উৎস ব্যবহৃত  হয়েছে উইকিপিডিয়া, দৈনিক যুগান্তর ও জাগো নিউজ ওয়েভ পোর্টাল

আলেকজেন্ডার গ্রাহাম বেল ( Alexander Graham Bell)

  আলেকজেন্ডার গ্রাহাম বেল ( Alexander Graham Bell) শিশুকাল থেকেই তিনি প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত কৌতুহলি ছিলেন। তিনি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার জন্য বিভিন্ন উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করতেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে পেরেকের ব্রাশ এবং ঘূর্ণায়মান প্যাডেলের সমন্বয়ে একটি গম পেষানোর যন্ত্র তৈরী করেন। এক তরুণ। বয়স আর কত হবে । বড়জোর ষোল বছর। অথচ এতো অল্প বয়সেই বোস্টন শহরে এক ধনী ব্যবসায়ীর বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাজ করতে হতো। আমি যে সময়ের কথা বলছি, তখন সবেমাত্র টেলিগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। মানুষ এক জয়গার তথ্য সহজেই এই যন্ত্রের সাহায্যে পাঠাতে পারছে দূরের কোনো জায়গায়। কিন্তু তা হলে কি হবে, মানুষ তো। মানুষ একবার কোন কিছু পেলেই থেমে থাকে না, তার অনুসন্ধানী মন আরও নতুন কিছু পেতে চায়। এক্ষেত্রে ঘটলো তাই। মানুষ টেলিগ্রাফের মাধ্যমে শুধু সংকেত দিয়ে খবরাখবর পাঠিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট থাকতে পারলো না। মানুষ চাইলো, নিজের কন্ঠকে প্রিয়জনের কাছে পাঠাতে । এত যে কথা বলবে সে যেমন খুশি হবে, ঠিক তেমনি যার কাছে পাঠানো হবে , সেও তেমনি খুশি হবে। বিজ্ঞানীরা মানুষের এই আগ্রহের কথা কিন্তু জানেন। তাই শুরু হয়ে গেল গবেষণা। এক...

বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ( Alexander Fleming)

  বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং  একজন চিকিৎসক। তার নাম আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। রোগ জীবাণুদের প্রতিপালন করা এবং ওদের নিয়ে গবেষণা করার বড্ড শখ ছিল ডাক্তারের। একদিন যে কাঁচের বাক্সের ভেতরে রোগজীবাণুদের রেখেছিলেন, সেই বাক্সের ঢাকনা খুলে চোখে পড়লো বাক্সের ভিতরে কেমন করে যেন হঠাৎ গজিয়ে উঠেছে এক ধরনের ছত্রাক। ঐ ছত্রাকের ধারে কাছে রোগজীবাণুরা আদৌ বংশবিস্তার করতে পারে নি, বরং অনেকেই একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। কারণ অনুসন্ধানে যত্মবান হলেন ফ্লেমিং। একদিন বুঝতে পারলেন, বাক্সের ঢাকনা খুলে যখন তিনি রোগজীবাণুদের বপন করতেন, তখনই কোন এক অসতর্ক মুহূর্তে বিশেষ এক ধরনের বিরল প্রজাতির    ছত্রাকের বীজ বাতাস থেকে উড়ে এসে বাক্সে পড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশ লাভ করে বংশবিস্তার করেছে। ব্যাপারটা অতি সাধারণ হলে কী হবে ফ্লেমিং ঘটনাটিকে আদৌ তুচ্ছ মনে করলেন না। এ সম্বন্ধে তিনি মাথা ঘামাতে শুরু করলেন এবং তিনি ধারণা করলেন অজ্ঞাত এই ছত্রাকটির নিশ্চয় এই জীবণুদের ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে। ছত্রাকটি নিয়ে এবার শুরু হলো গবেষণা। অচিরেই জানতে পারলেন, ছত্রাকটি বিরল হলেও এদের বীজ বাতাসে ঘুরে বেড়ায়, যখন‌ই এরা বংশবিস...

লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)

লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)  মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব যে জলে রাজত্ব করে চলছে, অণূবী্ক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের সময়ই উদঘাটন করে গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক সাড়া ফেলে । জল ছাড়া অন্য কোথাও এসব জীবের অস্ত্বিত্ব আছে কি না, তা জানার জন্য অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেন। লিউয়েনহুকের আবিষ্কৃত অণূবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমেই শুরু হয় গবেষণা। এ বিষয়ে যিনি কালজয়ী খ্যাতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন তিনি ফ্রান্সের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) । পাস্তুরই সর্বপ্রথম ঘোষণা করেন, জীবাণূরা নিজে থেকেই জন্মায় না। অর্থাৎ এদেরও পূর্বপুরুষ আছে। অপরুদিকে কেবল জল নয়, মাটি আর বাতাসেও এরা ঘুরে বেড়ায়। এক কথায় জল-স্থল-আকাশের সর্বত্রই বিচরণ করছে ওরা। মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা প্রভৃতি অধিকাংশ রোগের মূলেও আছে এদের অনেকেরই প্রত্যক্ষ ভূমিকা। প্রথম থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জীবাণূদের নিয়েই গবেষণা করে গেছেন। তার গবেষণা শুরু হয়েছিল ফ্রান্সের এক বিশেষ সমস্যাকে কেন্দ্র করে। প্রথম জীবনে...

হিলিয়াম (Helium)

 হিলিয়াম (ইংরেজি: Helium, গ্রিক ἥλιος হ্যালিওস্‌ "সূর্য" থেকে হিলিয়াম গ্যাসের নামকরণ করা হয়েছে।)। উন্নত দেশগুলোতে ছোটদের খেলনার বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু হিলিয়াম গ্যাসের দাম হাইড্রোজেন গ্যাসের চেয়ে বেশি হ‌ওয়ায় বাংলাদেশের বেশিরভাগ বেলুনের ভিতর হিলিয়াম গ্যাসের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। হাইড্রোজেন গ্যাসে সহজে আগুন ধরে যায় বলে এই গ্যাস বেলুনে ব্যবহার বিপদজনক হতে পারে। হাসপাতালে রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডারে অক্সিজেনের সাথে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়।  পর্যায় সারণির ২য় মৌল। এর প্রতীক He। এটি পর্যায় সারণি ১ম পর্যায়ের শূন্য গ্রুপ-২ এ অবস্থিত। ভরের দিক দিয়ে এটি দ্বিতীয় হালকা মৌলিক পদার্থ। একমাত্র হাইড্রোজেন এর চেয়ে হালকা। হিলিয়াম একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস।  ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী পিয়ের জনসেন ভারতের গুন্ট‌ুরে একটি সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের জ্যোতির্বলয়ের বর্ণালীতে হিলিয়াম আবিষ্কার করেন। এর কিছুদিন পরেই এটি একটি মৌল হিসেবে চিহ্নিত হয়। ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার এডওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যা...

অধ্যায়: সেল (Cell)

  অধ্যায়: সেল যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি হতে বিদ্যূৎশক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখা হয়, তাকে সেল বলে। সেলে যতক্ষণ রাসায়নিক ক্রিয়া চলতে থাকে, ততক্ষণ বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়। যেই মাত্র রাসায়নিক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাথে সাথে বিদ্যুৎ প্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়। সেলের সাংকেতিক চিহ্ন নিম্নরুপ: আদর্শ সেল যে বিদ্যুৎ কোষের বিদ্যুৎ চালক বল সর্বদা একক থাকে এবং যার সাহায্যে অন্যান্য বিদ্যুৎ কোষের বিদ্যুৎ চালক বল তুলনা করা হয়, তাকে আদর্শ কোষ বা সেল বলে। সেল- এর গঠন ড্রাই সেল: এটি একটি ল্যাকলেন্স বিদ্যুৎ কোষের ভিন্ন রুপ। কোষে উত্তেজক হিসেবে  NH 4 Cl এর পেস্ট এবং অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড নিবারক হিসাবে কঠিন MnO 2 ব্যবহৃত হয় বলে একে ড্রাই সেল বলে। সেলের প্রকারভেদ: বিদ্যুৎ সেল প্রধানত দুই প্রকার। যথা: (ক) প্রাইমারি সেল এবং (খ) সেকেন্ডারি সেল। প্রাইমারি সেলকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: (ক) এক তরল সেল এবং (খ) দুই তরল সেল। এক তরল সেল যে প্রাইমারি সেলে শুধু একপ্রকার তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাকে তরল সেল বলে। যেমন- ড্রাইসেল, লেকল্যান্স সেল...

মৌলিক পদার্থগুলোর পরিচয়

  মৌলিক পদার্থগুলোর পরিচয় ১. হাইড্রোজেন (Hydrogen)   ২. হিলিয়াম ( Helium )   ৩. লিথিয়াম (Lithium) ৪. বেরেলিয়াম (Be) ৫. বোরন (B) ৬. কার্বন (C) ৭. নাইট্রোজেন (N) ৮. অক্সিজেন (O) ৯. ফ্লোরিন (F) ১০. নিয়ন ( Ne) ১১. সোডিয়াম (Na) ১২. ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ১৩. অ্যালুমিনিয়াম (Al) ১৪. সিলিকন (Si) ১৫. ফসফরাস (P) ১৬. সালফার (S) ১৭. ক্লোরিন (Cl) ১৮. আর্গন (Ar) ১৯. পটাশিয়াম (K) ২০. ক্যালশিয়াম (Ca) ২১. স্কেন্ডিয়াম (Sc) ২২. টাইটেনিয়াম ( Ti) ২৩. ভেনাডিয়াম ( V) ২৪. ক্রোমিয়াম ( Cr) ২৫. ম্যাঙ্গানিজ (Mn) ২৬. আয়রন (Fe) ২৭. কোবাল্ট ( Co) ২৮. নিকেল (Ni) ২৯. কপার (Cu) ৩০. জিংক (Zn)

হাইড্রোজেন (Hydrogen)

  হাইড্রোজেন (Hydrogen) হাইড্রোজেন একটি গ্যাস। এর প্রতীক H এবং মৌলিক গ্যাসের দুটি পরমাণু সবসময় একসাথে থাকে বলে হাইড্রোজেন গ্যাসের সংকেত H2 । এই গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস। দাহ্য গ্যাস মানে হলো এই গ্যাসে আগুনে খুবই জ্বলে। আমরা গ্যাসের চুলায় রান্নার কাজে সাধারণত যে গ্যাস ব্যবহার করি সেই গ্যাসের নাম মিথেন গ্যাস। এক‌ই পরিমাণ রান্নায় মিথেন গ্যাসের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হলে কম পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ নদীর দেশ। আর এদেশের খাল বিল নদ নদী তে রয়েছে পানির অফুরন্ত ভান্ডার। পানি যৌগটি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এর সমন্বয়ে গঠিত। পানিতে যদি কারেন্ট প্রবাহিত করা হয় তাহলে এর ঋনাত্মক প্রান্তে হাইড্রোজেন গ্যাস এসে জমা হয়। আর জমা হ‌ওয়া গ্যাসের পরিমাণ ধনাত্মক প্রান্তে জমা হ‌ওয়া অক্সিজেন গ্যাস এর দ্বিগুন। এজন্য পানির সংকেত H20 ভবিষ্যতে জ্বালানি রুপে মিথেন গ্যাসের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্যাস জায়গা করে নিবে। কারণ মিথেন গ্যাসের পরিমাণ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। গাড়িতে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার শুরু হবে। কারণ হাইড্রোজেন গ্যাস মিথেনের চেয়ে বেশি কার্যকর গ্যাস। ১৭৬৬ সালে ...

মোবাইল অ্যাপ/এপ তৈরির কৌশল (Making mobile app)

 আমরা যেসব এপ ব্যবহার করি এসব এপ হলো এক ধরনের সফটওয়্যার। গুগল প্লে স্টোরে পা‌ওয়া বেশিরভাগ এপ তৈরি করা হয়েছে Android Studio নামক একটি সফটওয়্যার দিয়ে। এই সফটওয়্যারটি কম্পিউটারে ইনস্টল করে এপ বানানো যায়। তবে এপ বানানোর আগে  কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জানতেন হবে। C ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করতে হয়। এরপর JavaScript,Java শিখতে হবে। এছাড়া  HTML ও CSS সম্পর্কে জানা দরকার। এরপর Android Studio সফটওয়্যার দিয়ে নিজের পছন্দ মত এপ বানানো যায়।

বিদ্যুৎ আবিষ্কারের কাহিনী

 বিদ্যুৎ আবিষ্কারের কাহিনী বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথম শুরু হয় ব্যাটারি আবিষ্কারের মাধ্যমে। এর পর আগে চুম্বক ব্যবহার করে প্রথম জেনারেটর উংপাদন করা হয়। বর্তমানে টারবাইনের সাথে জেনারেটর লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ধারাবাহিক উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারগুলো হলো: ১৮০০ সালে আলেসান্দ্রা ভোল্টা সিলভার ও জিংক থেকে ব্যাটারী আবিষ্কার করেন যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। ১৮২০ সালে বিজ্ঞানী হান্স ক্রিশ্চিয়ান ওরস্টেড (Hans Christian Oersted ) লক্ষ্য করেন যে, বিদ্যুৎ চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। ১৮২১ সালে বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে একটি পরিক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা একটি তারকে ঘূর্ণায়মান রাখা যায়। ১৮২৫ সালে উইলিয়াম স্টারজেন আবিষ্কার করেন একটি লোহার চারদিকে তার পেচিয়ে চুম্বক ক্ষেত্রের আয়তন বৃদ্ধি করা যায় ।  ১৮৩১ সালে হেনরি জোসেফ একটি ছোট চুম্বকীয় রকার তৈরি করেন যাকে সে ফিলোসোফিকাল টয় হিসেবে অভিহিত করেন। এক‌ই বছর ১৮৩১ সালে ফ্রেন্স যন্ত্রতৈরিকারক হিপোলাই ফিক্সি ( Hippolyte fixe ) প্রথম এসি কারেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হন। ১৮৩৪ সালে ইতালিয়ান...

বিজ্ঞানী ইভানজেলিস্টা টরিসেলি (১৬০৮-১৬৪৭)

Image
বিজ্ঞানী ইভানজেলিস্টা টরিসেলি (Evangelista Torricelli) (১৬০৮-১৬৪৭) ইতালীয় বিজ্ঞানী টরিসেলি পারদের সাহায্যে বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণয় করেন। তিনি একটি পাতলা টিউব নেন । টিউবটি দেখতে টেস্ট টিউব এর মত যার এক প্রান্ত বন্ধ। টিউবটিতে পারদ ঢাললেন। এর পর পারদপূর্ণ টিউবটির খোলা মাথা আঙ্গুল দিয়ে ঢেকে একটি পাত্রে রাখা পারদের ভিতর উল্টিয়ে স্থাপন করলেন। টিউবটির বন্ধ মুখটি উপরের দিকে রাখলেন। এবার তিনি লক্ষ্য করলেন, টিউবটির উপরের দিকের মুখ বন্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে পারদ নিচের দিকে নামছে। একটা নির্দিষ্ট উচ্চতার পর পারদ আর নিচে নামছে না। তিনি পারদের উচ্চতা মাপলেন। দেখলেন টিউবে পারদের উচ্চতা ৭৬ সেমি। একটি অদৃশ্য শক্তি যেন পারদকে টিউব থেকে নিচের দিকে নামতে দিচ্ছে না। আসলে এই অদৃশ্য শক্তি হলো বায়ুর চাপ । সেই থেকে স্বাভাবিক বায়ু চাপ ৭৬ সেমি হিসাব করা হয়। এই বায়ু চাপ‌ই পাত্রে রাখা পারদের উপর ক্রিয়া করছে। ফলে টিউবে ভিতরের পারদকে নিচে নামতে দিচ্ছে না। ৭৬ সেমি এর থেকে নিচের দিকে পারদ নামতে থাকলে বায়ুচাপ কমছে বলে বিবেচনা করা হয়। বায়ুচাপ কম হ‌ওয়ার মানে নিম্ন চাপের সৃষ্টি হ‌ওয়া। অর্থাৎ বায়ুচাপ কমে গেলে ‌ঝড...

মাইকেল ফ্যারাডে

 যার আবিষ্কার বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীকে।দিয়েছে উপহার আধুনিক বিশ্ব। বিজ্ঞানী ফ্যারাড ১৭৯১ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডে নিউইংটন বাটস অঞ্চলে ফ্যারাডের জন্ম। তার বাবা জেমস ছিলেন একজন কামার। বাড়ির কাছে একটি প্রাথমিক স্কুল এ কিছুদিন পড়াশোনা করছেন ফ্যারাডে। তারপর আর্থিক অনটনের কারণে মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দিতে হয়। তারপর আর কোনদিন স্কুল এ যাওয়ার সৌভাগ্য হয় নি তার। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তিনি একটি বইয়ের দোকানে কাজ নেন। সেখান থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা মানুষের বাড়ি গিয়ে গিয়ে বিক্রি করাই ছিল তার কাজ। এক বছর কাজ করার পর তাকে বই বাধাইয়ের কাজ দেওয়া হয়। যাতে কষ্ট আরেকটু কম হয়। এই কাজের ফাকে পড়ার সুযোগ বেশি। বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলো তাকে বেশি আকর্ষন করে। কিছুদিনের মধ্যে তিনি তার বাড়িতে বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ছোট একটা ল্যাব তৈরি করে ফেলেন। হাত খরচের পয়সা বাচিয়ে গবেষণার জন্য একটা দুইটা জিনিস কিন্তেন।আবার অনেক জিনিস ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকে তুলে নিয়ে নিজে তৈরি করে নিতেন।এসময় তিনি তৎকালিন বিজ্ঞানী হামফ্রির সম্পর্কে জানতে পারেন এবং চিঠি লিখেতার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের কথা...

অধ্যায় -৬ : চুম্বক

 চুম্বক ও চুম্বকত্ব যে পদার্থের আকর্ষণীয় ও দিকদর্শী ধর্ম আছে এবং মুক্ত অবস্থায় সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে উত্তর ও দক্ষিণ মুখ করে থাকে তাকে চুম্বক বলে। তুরস্কের  ম্যাগনেশিয়া নামক গ্রামে ধূসর কালো রঙের এক ধরনের খনিজ আকরিক পা‌ওয়া যায় যার মধ্যে চুম্বকের এই ধর্মগুলো বিদ্যমান ছিল। উক্ত স্থানের নাম অনুসারে ঐ আকরিকের নামকরণ করা হয় ম্যাগনেটাইট। এ ম্যাগনেটাইট হতে চুম্বকের ইংরেজি নাম ম্যাগনেটাইট হয়েছে। চুম্বকের ধর্ম চুম্বকের মূল চারটি ধর্ম বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যথা :- ক) আকর্ষণী ধর্ম : যে ধর্মের কারণে চুম্বক অনেক পদার্থকে আকর্ষণ করে তাকে চুম্বকের আকর্ষণী ধর্ম। চুম্বক লৌহ বা লোহা জাতীয় পদার্থকে আকর্ষণ করে। এক খন্ড চুম্বককে লৌহ চূর্ণের মধ্যে ডুবালে চুম্বকের সাথে লৌহ চূর্ণ লেগে যায়। এর অর্থ চুম্বক লৌহ চূর্ণকে আকর্ষণ করে। খ) দিকদর্শী ধর্ম : চুম্বক যে ধর্মের দ্বারা দিক নির্দেশ করতে পারে তাকে চুম্বকের দিকদর্শী ধর্ম বলে। একটি চুম্বককে পাকহীন সুতার সাহায্যে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিলে কয়েকবার দোলার পর অবশেষে মোটামুটি ভৌগোলিক ভাবে উত্তর ও দক্ষিণ বরাবর মুখ করে স্থির থাকে। চুম্বকটি এভাবে উত...